২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ

২০২৬ সাল থেকে লিফট রফতানি করবে প্রাণ-আরএফএল

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে লিফট উৎপাদন করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান প্রপার্টি লিফটস।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে লিফট উৎপাদন করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান প্রপার্টি লিফটস। ২০১৮ সাল থেকে নিজস্ব কারখানায় স্বল্প পরিসরে উৎপাদন শুরু করে ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি করা হয়। দেশের বাজারে এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি লিফট বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সাল থেকে বিশ্ববাজারে লিফট রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরএন পাল জানান, শুরুতে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত কম্পোনেন্ট (উপাদান) দিয়ে লিফট তৈরি করা হতো। তবে এখন নিজস্ব কারখানায় লিফটে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কম্পোনেন্ট উৎপাদন করা হচ্ছে। ক্রেতাদের বিশ্বমানের লিফট সরবরাহে আধুনিক প্রযুক্তির মোটর ও কন্ট্রোল প্যানেলে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি মান পরীক্ষার জন্য উন্নতমানের ল্যাবসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে।

আরএন পাল বলেন, ‘ক্রেতারা অবশ্যই বিশ্বমানের লিফট চান, যেখানে সেফটি সিকিউরিটি নিশ্চিত হবে। কিন্তু তারা কম দামে প্রয়োজন অনুযায়ী লিফটও চান। এক সময় লিফট বলতে আমদানীকৃত লিফটকেই বোঝানো হতো, যার দাম ছিল বেশি। পুরনো ভবনে কাস্টমাইজড লিফট বসানোর সুযোগও সীমিত ছিল। অনেকে তিন-চারতলা বাড়ি কিংবা মার্কেটের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে লিফট চান। এসব বাস্তবতায় আমরা দেশে লিফট তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল দেশে মূল্য সংযোজন বাড়িয়ে লিফট উৎপাদন করতে পারলে দাম কমে আসবে। এর ফলে লিফটের ব্যবহারও বাড়বে। এখন আমরা ভোক্তার পছন্দের কাস্টমাইজড লিফট সহজে সরবরাহ করতে পারছি। দেশে কারখানা স্থাপনের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।’

নিরাপত্তার বিষয়ে আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘প্রপার্টি লিফটস নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান পূরণ করে থাকে। এতে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল দুই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কারণে লিফট ছিঁড়ে গেলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে না। কারণ এতে রয়েছে বিশেষ ধরনের সেন্সর ও ব্রেক সিস্টেম। সেন্সরের কাছে লিফটের গতি অস্বাভাবিক মনে হলে এক মিটার দূরত্বের মধ্যে আটকে দেবে ব্রেক। ফলে নিচে পড়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে।’ নিরাপত্তার পাশাপাশি এসব লিফট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বলেও জানান তিনি।

গতকাল প্রপার্টি লিফটসের কারখানায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিশাল একটি অংশজুড়ে লিফট তৈরির কাজ চলছে। সেখানে কর্মীরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। কারখানার কাছেই লিফট পরীক্ষা করার জন্য একটি টেস্টিং টাওয়ার রয়েছে, যেখানে গতি পরিমাপ করা হয়। টাওয়ারটিতে প্রতি সেকেন্ডে তিন মিটার গতিতে লিফট চলতে দেখা গেছে।

দেশে ব্যবহৃত লিফটের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ আসে বিদেশ থেকে। বর্তমানে প্রাণ-আরএফএলসহ আরো একটি প্রতিষ্ঠান দেশেই লিফট উৎপাদন করে। কোম্পানি দুটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে উন্নতমানের লিফট সরবরাহ শুরু করায় আমদানি প্রবণতা দিন দিন কমছে। বাজারে এখন প্যাসেঞ্জার, কার্গো, হাসপাতাল, হোম, ক্যাপসুল, হাইড্রোলিক ও সিজার লিফট পাওয়া যায়। ধারণক্ষমতা ও ফিচারের ওপর ভিত্তি করে দাম ১৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সমমানের আমদানি করা লিফটের তুলনায় দেশে উৎপাদিত লিফটের দাম ৫-৭ লাখ টাকা পর্যন্ত কম।

প্রপার্টি লিফটসের চিফ অপারেটিং অফিসার মঈনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে দেশে লিফটের বাজার প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার। বছরে গড়ে সাড়ে চার-পাঁচ হাজার ইউনিট বিক্রি হয়। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ১০-১৫ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রপার্টি লিফটসের কারখানায় মাসে ২৭০ ইউনিট লিফট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে গড়ে ১০০ ইউনিট উৎপাদন হচ্ছে। এসব পণ্যে এক বছরের গ্যারান্টি রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে ৩৬টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে, যেখানে ৫৩৭ জন সেবাদাতা কর্মরত রয়েছেন।’

উল্লেখ্য, প্রপার্টি লিফটসের কারখানায় বর্তমানে ২১০ জন কর্মী রয়েছেন। ইনস্টলেশন ও সার্ভিসিংয়ের জন্য আরো এক হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত। সারা দেশে নিরাপদ লিফট স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে আরো পাঁচ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

আরও